JDP

আমরা তৃতীয় শক্তি নয় - বাংলাদেশের একমাত্র বিকল্প শক্তি

বাংলাদেশ জাস্টিস এন্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি

Bangladesh Justice and Development Party

ঘোষণা পত্র ও নির্বচনী ইসতেহার
বাংলাদেশ জাস্টিস এন্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি

রাজনৈতিক দল গঠন এবং প্রতিষ্ঠাকালঃ

বাংলাদেশে অগণিত যুবসমাজ বেকার সমস্যায় নিমজ্জিত হয়ে মানষিক যন্ত্রনায় ভূগছে।  প্রতিবছর প্রায় ১৫ লাখ ছেলে – মেয়ে সরকারী অথবা বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে গ্রাজুয়েশন শেষ করে বের হচ্ছে, কিন্তু তাদের কোন কর্মসংস্থান এর ব্যবস্থা হচ্ছেনা। কর্মসংস্থানের আভাবে তরুন-তরুণীরা মানষিক ডিপ্রেশনে পরে মাদকাসক্ত, কিশোর গ্যাং, ছিনতাই, রাহাজানী, অর্থউপাজর্নে অবৈধ পন্থা অবলম্বন সহ বিভিন্ন অসামাজিক কাজে নিজেদের জড়াচ্ছে। যার ফলে যুবসমাজ দেশের সম্পদ এর পরিবর্তে দেশের জন্য অভিশাপ এ রুপান্তর হচ্ছে। যেখানে আমার দেশে সরকারী চাকুরী মাত্র ১৫ লাখ এর কিছু বেশি, সেখানে প্রায় ৫ কোটি বেকার যুবককে কর্মসংস্থান এর ব্যবস্থা করা কিছুইতে সম্ভব নয়। সুতরাং আমাদের কর্মভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে বেসরকারী ভাবে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। দেশের তরুন-তরুনীদের কর্মপযোগী করে গড়ে তোলার জন্য কোন সরকার ই দূশ্যতঃ তেমন কোন পদক্ষেপ নিতে দেখছি না। এমনকি আমাদের দেশ থেকে যে সকল শ্রমিক বিদেশে যাচ্ছে, তাদের কে ও তেমন যোগ্য শ্রমিক করে তৈরি করে পাঠাচ্ছে না। বিষয়গুলো মাথায় রেখে বাংলাদেশ জাস্টিস এন্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মোঃ দেলোয়ার হোসাইন ২০১৫ সালের ১২ মে বাংলাদেশ কর্মসংস্থান আন্দোলন নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন। পরবর্তিতে ২০২২ সালের ১১ই এপ্রিল দলের সকল সদস্যদের পরামর্শক্রমে দলের নাম পরিবর্তন করে বাংলাদেশ জাস্টিস এন্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি করা হয়। এবং নির্বাচন কমিশনে দলের নিবন্ধনের জন্য ২০২২ সালের ২০ শে সেপ্টেম্বর আবেদন করেন। নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন না দেওয়ায়, দলের পক্ষে দলের চেয়ারম্যান হাইকোর্টে নির্বাচন কমিশনকে বিবাদি করে রিট করেন। বিজ্ঞ আদালত বাংলাদেশ জাস্টিস এন্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি পক্ষে রুল দেন। এবং নির্বাচন কমিশনকে জবাব দিতে বলেন, কেন বাংলাদেশ জাস্টিস এন্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টিকে নিবন্ধন দেওয়া হলো না? বর্তমানে দলের নিবন্ধনের বিষয়টি হাইকোর্টে শুনাণীর অপেক্ষায় আছে। সেই সুবাদে বাংলাদেশ জাস্টিস এন্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মোঃ দেলোয়ার হোসাইন এবং প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব মরহুম এ্যাডভোকেট গোলাম মস্তোফা। 

ভূমিকাঃ

বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে শ্রমিক, কৃষক, মেহনতী, দিনমুজুর, রিক্সা চালক, সিএনজি চালক, দলিত, হতদরিদ্র, লাঞ্ছিত, বঞ্চিত জনগণের গণস্বার্থ কে উপেক্ষা   করা হচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশের রাজনীতি লুটেরা, টাকা পাচারকারি, ভূমি দস্যু ও মাফিয়াদের চারণভূমি হয়ে উঠেছে ।

যে রাজনৈতিক দলই রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকুক না কেন তারা পরিবর্তনের কথা বললেও প্রকৃতপক্ষে জনগণের কোন পরিবর্তন হচ্ছে না। তার একমাত্র কারণ হচ্ছে আমাদের দেশে গতানুগতিক রাজনৈতিক ধারা একই ধরনের। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ধারাটা বড় দুটি দলে বিভক্ত।

যদিও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যেমন, বামপন্থী, ডানপন্থী, সংস্কার পন্থী, উদারপন্থি অথবা কট্টরপন্থী ইত্যাদি ভাগে বিভক্ত থাকে। কিন্তু আমাদের দেশে পন্থী বলতে বড় দুই দল।  বাংলাদেশে যারাই পরিবর্তনের দোহাই দিয়ে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেছে, তারা প্রত্যেকেই রাজনৈতিক দল গঠনের পর বড় দুইটি দলের যেকোনো একটি দলের পক্ষ বেছে নিয়েছে এবং তারা তাদের দল গঠনের পূর্বে যে চিন্তা বা আদর্শ নিয়ে দল গঠন করেছিলেন তাকে ভূলে গিয়ে দুটি দলে বন্ধনা নিয়ে ব্যস্ত থেকেছেন। যার ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশে প্রকৃতপক্ষে কোন প্রকার পরিবর্তন সম্ভব নয়। কেননা বাংলাদেশে দুটি দলের শাসনব্যবস্থা আমরা দেখেছি তাদের মধ্যে দৃশ্যত তেমন কোন পরিবর্তন নেই।

যেমন ধরে নেন, আমাদের দেশে বর্তমানে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে, মানুষের মন মানসিকতার বিবর্তন ঘটেছে, তরুণ সমাজ কর্মসংস্থানের অভাবে মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে আছে। চাকুরীর জন্য কৌটা আন্দোলন হলেও দৃশ্যত এটা ছিল শুধু সরকারি চাকরির জন্য আন্দোলন। কিন্তু আমাদের দেশে বর্তমানে বেকারের সংখ্যা প্রায় পাঁচ কোটির উপরে। যেখানে সরকারি চাকুরী আছে মাত্র ১৫ লাখ থেকে কিছু বেশি। এই পাঁচ কোটি তরুণ প্রজন্মকে ১৫ লাখ চাকরির মাধ্যমে বেকার মুক্ত করে চিন্তামুক্ত করা সম্ভব নয়। তার ফলশ্রুতিতে দেশে কিশোর গ্যাং, মাদক সেবন, ছিনতাই, রাহাজানি মানুষ মানুষের প্রতিহিংসা, এবং বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপে তরুণ সমাজ নিমজ্জিত হয়েছে। এমতাবস্থায় আমাদের দেশে প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে বরাদ্দ দেয়া হয়। এই মন্ত্রণালয় গুলোর এমন কোন পরিকল্পনা  বা পদক্ষেপ বাস্তব সম্মত ভাবে আমরা দেখতে পাচ্ছি না। যে এই তরুণ সমাজকে, পিছিয়েপরা জাতির পরিবর্তন করে একটি সুখী সমৃদ্ধ, সুন্দর, শান্তিময় বাংলাদেশ গড়ে তোলবে। হাজার হাজার বেকার তরুণ-তরুণীদের জন্য এমন কোন পরিকল্পনা বাস্তবসম্মত দেখতে পাচ্ছি না, যার মাধ্যমে এ দেশের তরুণ সমাজ অকর্মণ্য মস্তিষ্ক শয়তানের আড্ডাখানা থেকে বের হয়ে, একটি সুস্থ সুন্দর জীবন যাপন করতে পারবে।

বেঁচে থাকার জন্য আমাদের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা কোনটাই জনগণের সাধ্যের মধ্যে নেই। একটি দেশের আবহাওয়া বা পরিবেশ বিপর্যয় ঠেকাতে ২৫% বনভূমি দরকার যেখানে, খোদ ঢাকা শহরে বনভুমি আছে মাত্র ২% মৌলিক চাহিদা তো দূরের কথা শান্তিতে নিশ্বাস নেওয়ার সুব্যবস্থা ও নেই। নিরাপদ পানির ব্যবস্থা পর্যন্ত নাই। পাট এক সময় বাংলাদেশের সোনালী আশঁ হলেও দেশে বর্তমানে ক্ষতিকর প্লাস্টিকে ভরপুর। নদীমাতৃক দেশ হলেও আমাদের খাল-বিল নদী নালা সব ভূমি দস্যুদের কবলে। পূর্বের মতো প্রোটিন যুক্ত মাছ আর নেই। সেই মাছে-ভাতে বাঙ্গালী এখন ইতিহাস। বিদেশি সংস্কৃতিতে দেশের সমাজ ব্যবস্থা ধ্বংশ হলেও দেশিয় সংস্কৃতি রক্ষা কোন পদক্ষেপ নেই সংস্কৃতি মন্ত্রনালয়ের। মূল আলোচনা হচ্ছে “কর্তার গাই কেতাবে আছে- কিন্তু গোহালে নাই”।

প্রকৃতপক্ষে আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলো এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্য আলোচনা-সমালোচনা ধ্যান, জ্ঞ্যান, ধারণা সবকিছুই বিস্তার করছে একে অন্যের সমালোচনা এবং বিষেদগার ইত্যাদি নিয়ে।

আমাদের নেতৃবৃন্দ শুধু এদেশের মানুষের সমস্যার কথা বলেন এবং সমস্যার কথা বলতে গিয়ে একজন আরেকজনের প্রতি বিষ ছড়ান, কিন্তু এই সমস্যার সমাধান কি হবে, কিভাবে সকলে মিলে এই সমস্যা থেকে জাতিকে মুক্ত করতে পারবো তার সম্পর্কে কোন বাস্তব সম্মত পদক্ষেপ নেন না। তেমনি আমাদের দেশের বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতা এবং তাদের পরামর্শ ও শুনেন না। যার ফলে আমাদের দেশ একটি আন্তসারশূন্য একটি দেশে পরিণত হচ্ছে। ঠিক এমততাবস্থায় নতুন রাজনৈতিক দলগুলোর তেমন কোনো ভূমিকা চোখে পড়ছে না, তার প্রধান কারণ হচ্ছে রাজনৈতিক দল গঠন করার সাথে সাথেই দুটি ধারায় তারা বিভক্ত হয়ে যান।

রাজনৈতিক দলগুলো যখন নিজের আদর্শ উদ্দেশ্যকে জলাঞ্জলি দিয়ে, দুই ধারার কোন এক ধারায় নিজেকে নিমজ্জিত করে, তখন তাদের পক্ষে নতুন রাষ্ট্র গঠন এবং নতুন করে এই সমাজটাকে গঠনের তেমন কোন চিন্তা বা উপায় থাকে না এবং তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না।

এমতাবস্থায় আমাদের একমাত্র উপায় হচ্ছে, আমরা বিরোধীতার জন্য বিরোধিতা এই সংস্কৃতি থেকে সরে এসে, গতানুগতিক রাজনৈতিক বলয় থেকে বের হয়ে জাতির জন্য একটি বিকল্প প্ল্যাটফর্ম তৈরি করার মাধ্যমে, একটি সম্ভাবনাময়, শান্তিপূর্ণ, প্রকৃতপক্ষে আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত, বিভিন্ন দলিলের ভিত্তিতে একটি কার্যকর রাষ্ট্রগঠনের পথ উন্মোচন করা। এতে করে আমাদের নতুন প্রজন্ম আগামী ১০০ বছর পর কি করবে, কোথায় যাবে, কিভাবে এ রাষ্ট্র পরিচালনা হবে এবং এদেশের নির্যাতিত নিপীড়িত মানুষ তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন করতে পারবে তার সঠিক পথ তৈরি হবে।

 স্বাধীনতার ঘোষণার সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার  এই মতাদর্শ  কে সামনে রেখে, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সনদ, ঘোষণা, চুক্তি ও আন্তর্জাতিক সমঝোতার মধ্য দিয়ে যে সকল রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক অধিকার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হয়েছে, তার বাস্তব সম্মত প্রতিফলন এর মাধ্যমে বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি গঠন করে একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগঠন করা আমাদের মূল লক্ষ্য । এখানে গণতন্ত্র বলতে শুধু ৫ বছর পর পর ভোট প্রদান বা নির্বাচন কেন্দ্রীক গণতন্ত্র নয় । প্রকৃতপক্ষে গণতন্ত্র বলতে আর্ন্তজাতিক ভাবে যে অধিকার বুঝায় তার পরিপূর্ণ বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি কার্যকর রাষ্ট্র গঠন করা।

এ অবস্থা থেকে উত্তরণে গণমুখী ও গণবান্ধব রাজনৈতিক শক্তির উত্থান জরুরি। এই জন্য রাষ্ট্র গঠন ও গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের লড়াই গড়ে তোলা জরুরি হয়ে পড়েছে। সেই লক্ষ্যকে মাথায় রেখে জাতি গঠনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছে বাংলাদেশ জাস্টিস এন্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি এবং জাতীয় জনতার জোট ।

১. বাংলাদেশ জাস্টিস এন্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি ঘোষণা করছে, বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করার সংস্কৃতির বাইরে এসে আমরা তৃতীয় শক্তি হিসেবে নয়, বরং এক সৃষ্টিশীল ও বাস্তবমুখী বিকল্প শক্তি গঠন করতে চাই। আমাদের লক্ষ্য হলো দেশের জন্য সমাধানমুখী পথ প্রদর্শন করা, যা জাতির উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

আমরা বিশ্বাস করি, এ বিকল্প শক্তি দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে নতুন আশা এবং পরিবর্তনের সঠিক দিশা দেখাতে সক্ষম হবে।

২. আমরা ঘোষণা করছি যে, বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে শ্রমিক, কৃষক, মেহনতজীবী, দিনমজুর, হতদরিদ্র, লাঞ্ছিত ও বঞ্চিত জনগণের অংশগ্রহণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিশ্চিত করা হবে। তাদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে, জনতার সরাসরি পরামর্শ ও মতামতকে ভিত্তি করে একটি নতুন গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করা হবে। আমাদের বিশ্বাস, গঠনতন্ত্র জনগণকে শাসন করার জন্য নয়, বরং জনগণের কথাকে গুরুত্ব দিয়ে, জনগনের অংশগ্রহণে গঠিত। এর ফলে দেশের আইন ও নীতিমালা হবে সবার কল্যাণমুখী ও ন্যায়সঙ্গত। এই ফলে একসমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য জনতার শক্তি ও স্বার্থ সর্বোচ্চ মর্যাদা পাবে।

৩. জেডিপি ঘোষণা করছে যে, বাংলাদেশের সমাজ, রাজনীতি ও অর্থনীতির সকল ক্ষেত্রে দেশের প্রকৃত সংস্কৃতির প্রতিফলন ঘটিয়ে খেটে খাওয়া, পিছিয়ে পড়া জনগণ এবং নারীদের তাদের যোগ্য অধিকার প্রদান করা হবে। তাদের কণ্ঠস্বরকে জোরদার করে সমাজ ও দেশের গঠনে সক্রিয় ও সমন্বিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। আমরা দৃঢ় বিশ্বাস করি, সকলের জন্য সমান অধিকার ও সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে একটি ন্যায়সঙ্গত, সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

৪. জেডিপি ঘোষণা করছে যে, দেশের সকল ধর্মের ধর্মপ্রাণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান ও শ্রদ্ধার সঙ্গে গ্রহণ করা হবে। পারস্পরিক সহমর্মিতা ও সহযোগিতার মাধ্যমে মানবিক নৈতিকতা ও আত্মিক বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করার জন্য আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বাহ্যিকভাবে চাপিয়ে দেওয়া বা ধার করা বিকৃত সংস্কৃতি ও সমাজব্যবস্থাকে পরিহার করে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও নৈতিক উন্নয়নের ভিত্তিতে একটি সার্বজনীন, ঐক্যবদ্ধ ও সমন্বিত সমাজ ও সংস্কৃতি গড়ে তোলা অপরিহার্য। এই উদ্দেশ্যে আমরা সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় কাজ করব এবং দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে এই নৈতিক ও ঐক্যবদ্ধ সমাজের ভূমিকা নিশ্চিত করব। আমরা প্রত্যাশা করি, এই শপথের মাধ্যমে একটি মানবিক, নৈতিক ও উন্নত সমাজের সপ্ন সফল হবে।

৫. নির্বাচন সর্বস্ব, আন্তঃসারশূন্য, অকার্যকর ও নামমাত্র গণতন্ত্রকে বরণ করার পরিবর্তে, আমাদের বাঙালি ঐতিহ্য এবং বুদ্ধিভিত্তিক, দার্শনিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এমন একটি রাষ্ট্র যেখানে নাগরিকের বাকস্বাধীনতা, ব্যক্তিগত বিবেক, চিন্তা ও মত প্রকাশের পূর্ণ অধিকার নিশ্চিত থাকবে। পাশাপাশি ভাষা, স্বদেশী সংস্কৃতি, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং দেশীয় জাতীয়তাবাদের সঠিক মর্যাদা ও স্বাতন্ত্র্য রক্ষায় গুরুত্ব দেওয়া হবে, যা আমাদের জাতীয় ঐতিহ্যের অঙ্গাঙ্গী অংশ।

৬. আমরা একটি কর্মভিত্তিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও বুদ্ধিভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার প্রবর্তনের অঙ্গীকার করছি, যাতে দেশের কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণীরা আগামী বাংলাদেশের নির্মাতা হিসেবে প্রস্তুত হতে পারে। কমিউনিটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে মানবিক ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে, তাদেরকে জাতির কার্যকর সম্পদে পরিণত করা হবে। বেকারত্ব হ্রাসে, বেসরকারি চাকরিতে কর্মীবান্ধব বাস্তবসম্মত নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে, যাতে তরুণ সমাজ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সরকারি চাকরির বিকল্প হিসেবে বেসরকারি খাতেও নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারে।

৭. আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ— বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিকাশে একটি সঠিক ও গণমুখী জাতীয় নীতি ও কৌশল প্রণয়ন করা হবে, যেখানে প্রান্তিক জনগণের অংশগ্রহণ থাকবে নিশ্চিত এবং প্রতিষ্ঠানিক সুযোগ তৈরি হবে তাদের জন্য সরাসরি সম্পৃক্ততার মাধ্যমে। একইসঙ্গে, সিন্ডিকেটনির্ভর পুঁজিবাদী অর্থনীতি বিলুপ্ত করে একটি সমতা ও ন্যায়ভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যা সকলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করবে।

৮. রাষ্ট্রের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে সাধারণ মানুষের জীবনধারণের মৌলিক চাহিদা পূরণ। তাই, সকল নাগরিকের জন্য পানি, খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও বাসস্থানের নিশ্চয়তা বিধান রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব হিসেবে নিশ্চিত করা হবে। যেখানে কেউ আর বেঁচে থাকার লড়াইয়ে একা থাকবে না।

৯. বর্তমান বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় ; দেশে একটি শক্তিশালী, আধুনিক ও পেশাদার সশস্ত্র বাহিনী গঠন করা হবে, যা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সর্বদা প্রস্তুত থাকবে।  জনগণের অংশগ্রহণভিত্তিক একটি কার্যকর গণ-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যাতে দুর্যোগ, বৈরী আগ্রাসন কিংবা যেকোনো জাতীয় সংকটে জনগণ নিজ ভূমিকার প্রতি সচেতন ও প্রস্তুত থাকে।  উন্নত প্রযুক্তিসম্পন্ন রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে কৌশলগত বন্ধুত্ব ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করা হবে, যাতে অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।  দেশে সমরাস্ত্র উৎপাদনের নিজস্ব শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হবে, যা আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রযুক্তির সহায়তায় পরিচালিত হবে এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার পথে এক মাইলফলক হয়ে উঠবে। আমরা বিশ্বাস করি, এই পদক্ষেপসমূহ বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করবে এবং একটি নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও আত্মনির্ভর বাংলাদেশ গঠনে ভূমিকা রাখবে।

১০. দুর্নীতিবাজ, মাফিয়া ও অর্থপাচারকারীদের চিহ্নিত করে জনগণের লুট হওয়া সম্পদ উদ্ধার করতে হবে। স্থানীয় সরকার পুনর্গঠনের মাধ্যমে খাদ্য, পুষ্টি, আবাসন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও ব্যাপক কর্মসংস্থানের মাধ্যমে একটি বেকারমুক্ত, কার্যকর ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গড়ে তোলা জরুরি।

১১. কৃষি জমির উর্বরতা বিনষ্টকারী ক্ষতিকর কীটনাশকের ব্যবহার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে। একইসঙ্গে, কৃষিকে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব করতে গবেষণা-ভিত্তিক সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করতে হবে। কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা, তাদের শ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন ও আর্থিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার অন্যতম শর্ত। সরকারি উদ্যোগে দেশের সকল পতিত জমিকে কৃষিকাজে উপযোগী করে তোলা এবং তা চাষাবাদের আওতায় আনা জরুরি। এছাড়া আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কৃষক, খেতমজুর এবং দেশীয় বীজের অধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে, যেন তারা শোষণমুক্তভাবে টেকসই কৃষি ব্যবস্থায় অংশ নিতে পারেন। কৃষিকে পুনরুজ্জীবিত করে একটি আত্মনির্ভর ও খাদ্য-নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে এ নীতিগুলো বাস্তবায়ন অপরিহার্য।

১২. বাংলাদেশের সকল নদ-নদী, খাল বিল, অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে উদ্ধার করে, প্রাণ প্রকৃতির, পরিবেশ ধ্বংস ও জলবায়ু বিপর্যয় বন্ধসহ, খাদ্য সার্বভৌমত্ব অর্জন, প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত মৎস্য আহরণ এর মাধ্যমে খাদ্য ও পুষ্টির সমস্যার সমাধান করা। বিশেষ করে ” জাল যার-জল তার” এই নীতির ভিত্তিতে বড় বড় জলাশয়, খাল-বিলসহ সকল প্রাকৃতিক জলাধার মৎস্যজীবীসহ স্থানীয় জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় মাফিয়াদের হাতে ইজারা প্রদান প্রথা বাতিল করতে হবে। সরকারিভাবে বা প্রভাবশালীদের মাধ্যমে পরিচালিত ইজারা ব্যবস্থা বাতিল করে প্রকৃত জীবিকার উপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। এতে করে একদিকে যেমন স্থানীয় মানুষ তাদের প্রাকৃতিক সম্পদের উপর অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারবে, অন্যদিকে জলাশয় ব্যবস্থাপনায় টেকসই ও ন্যায্যতা নিশ্চিত হবে। পরিবেশ দূষণকারী প্লাস্টিক পণ্য বর্জন এবং পাট ও পাটজাত পণ্য ব্যবহার নিশ্চিত করা।

১৩. ১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অর্জিত বাংলাদেশের জন্ম ও পুনর্জাগরণ কেবল ভূখণ্ডগত স্বাধীনতার নয়, বরং একটি সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের আদর্শভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের শপথ। এই আদর্শ ধারণ করে বাংলাদেশ আজ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বিশ্বসভায় একটি মর্যাদাপূর্ণ, প্রগতিশীল ও শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে নিজেদের পরিচয় তুলে ধরতে অঙ্গীকারবদ্ধ। এই লক্ষ্য পূরণে প্রয়োজন ট্যাগের রাজনীতি মুক্ত বাংলাদেশ, যেখানে দলীয় স্বার্থ নয়, বরং জনগণের স্বার্থই হবে সর্বোচ্চ বিবেচনার বিষয়। জনগণের প্রত্যাশা ও অধিকারকে ভিত্তি করেই গড়ে উঠুক একটি জবাবদিহিমূলক, স্বচ্ছ ও ন্যায়নিষ্ঠ রাষ্ট্রব্যবস্থা।

উপরোক্ত বিষয় গুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নিম্ন কর্মসূচী ও পদক্ষেপ গ্রহন করা যেতে পারে।

. রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা রাজনীতি:

জাতীয় স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সংহত করার লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা – সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার বহাল রেখে সর্বজনবাদী/বহুজনবাদী’ (Inclusive) সমাজ গড়ে তোলা। মুসলিম তাহজিব- তমদ্দুন ও বাংলার সনাতনী মূল্যবোধের ঐক্যের মধ্য দিয়ে ‘বহুজন’বাদী রাজনীতি গড়ে তোলা আমাদের অতিশয় গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রনীতি ।

সকল ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের ক্ষমতার মালিক জনগণের সার্বভৌমত্ব ও যথাযথ কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করা। এই লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা ও রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রশাসনিক কাঠামো (১) গণতন্ত্র, (২) উপযুক্ত বিকেন্দ্রীয়করণ, (৩) স্বচ্ছতা, (৪) জবাবদিহিতা -এই নীতিমালার ভিত্তিতে মৌলিকভাবে ঢেলে সাজানো। উপজেলাকে রাষ্ট্রীয় ও প্রশাসনিক কাজের মুখ্য কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। গ্রাম, ইউনিয়ন, থানা ও জেলা স্তরে স্থানীয় স্বশাসিত সরকার কাঠামোকে আর্থিক ক্ষমতাসহ রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক কাজের দায়িত্ব ও ক্ষমতা বিকেন্দ্রীভূত করে অর্পণ করা। সকল স্তরের প্রশাসনিক কাঠামোতে আমলাতান্ত্রিকতা দূর করা এবং রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক কাজকর্মের ওপর স্ব-স্ব স্তরের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিয়ন্ত্রণ ও প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা ।

সংবিধান রিভিউ কমিটি গঠন করে মুক্তিযুদ্ধের তিন কর্মসূচি (সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার) এর আলোকে নতুন গণতান্ত্রিক সংবিধান প্রণয়ন করা । সকল নাগরিকের জন্য মৌলিক অধিকারসমূহ নিশ্চিত করা। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইন, নিরাপত্তা ও নিবর্তনমূলক আটক আইন, প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন অ্যাক্ট, বিভিন্ন ধরনের সেন্সরশিপ, অবাধ মত প্রকাশ ও মুক্তচিন্তার অধিকার হরণ, ধর্মঘট নিষিদ্ধকরণ আইনসহ মৌলিক অধিকার খর্বকারী সকল কালা কানুন বাতিল করা।

সকল সময়ের জন্য অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। প্রতিটি ভোটার যেন লোভ-লালসা ও ভয়মুক্তভাবে নিজের স্বাধীন ইচ্ছা অনুসারে ভোট প্রদান করতে পারেন এবং কারচুপিমুক্তভাবে যেন তার রায় প্রকাশিত হয় তা নিশ্চিত করা। নির্বাচনকে অর্থ ও পেশিশক্তির প্রভাবমুক্ত করা। দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা প্রতিষ্ঠা করা।

. অর্থনীতি:

জাতীয় স্তরে পরিকল্পনা কমিশনকে পূর্ণ কার্যকর করা, জিলা স্তরে পরিকল্পনা বোর্ড এবং ইউনিয়ন স্তরে পরিকল্পনা সেল স্থাপন । ৫০ বছর মেয়াদী উন্নয়ন পরিকল্পনা।  আন্তর্জাতিক ও জাতীয় সরবরাহ চেইনের পরিবর্তে আঞ্চলিক সরবরাহ চেইন নির্মাণে অগ্রাধিকার দেওয়া। গ্রাম বাংলার অতীত অর্থনৈতিক দর্শন “লবন আর কেরসীন ছাড়া সবই আমাদের ঘরের”। সাংস্কৃতিক আন্দোলনের মাধ্যমে গণমানুষের মন থেকে ভোগবাদী ও মুনাফাবাজীর প্রবণতা দূর করা । জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পরিবর্তে জাতীয় অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার সূচক প্রণয়ন ও ব্যবহার।  অবাধ ও খোলাবাজার অর্থনীতি’র ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করে অর্থনীতির ধারাবাহিক বিকাশ নিশ্চিতকল্পে সামগ্রিক দক্ষতা, সামাজিক কল্যাণ, লাভজনকতা প্রভৃতি অর্জনের বিষয়গুলো একসঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে রাষ্ট্রীয়-খাত, সমবায়ী খাত, ব্যক্তি-খাত ও মিশ্র-খাতসহ প্রতিটি খাতের যথাযথ ও সুপরিকল্পিত ভূমিকা নিশ্চিত করার মাধ্যমে স্বনির্ভর অর্থনৈতিক বিকাশের পথকে সুগম করা। কৃষি নির্ভর অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা এরং আমদানী নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশের শিল্পকারখানার কাঁচামাল সরবরাহের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে স্বনির্ভর করা।

. গ্রামীণ অর্থনীতি কৃষি উন্নয়ন

গ্রামীণ অর্থনীতি ও গ্রামীণ জীবনের আমূল পুনর্গঠন করা। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনসহ কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতির সুষম বিকাশের কাজে অগ্রাধিকারভিত্তিক গুরুত্ব আরোপ করা। এই লক্ষ্যে প্রতিটি গ্রামে বহুমূখী সমবায় সমিতি প্রতিষ্ঠা করা হবে। বহুমূখী সমবায় সমিতি সমন্বিত কৃষি খামার গড়ে তুলে-খাদ্য উৎপাদন, পশু সম্পদ, মৎস সম্পদ, ডাল, সবজি, তৈলবীজ, মসলা,ফুল ও ফলের চাষ করবে। সমিতির নিজস্ব চালের কল ও গুদাম থাকবে। ‘আবাদযোগ্য কৃষি জমির পরিমাণ ক্রমান্বয়ে সংকুচিত হওয়া থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ভূমি ব্যবহার নীতি প্রণয়ন করা। খাস জমি, হাওর, বিল-ঝিল, জলমহাল ইত্যাদি উৎপাদনশীল ব্যবহারে আনার জন্য এসবের মালিকানা দরিদ্র-দুঃস্থ-ভূমিহীন উৎপাদকদের সমবায়ের হাতে ন্যস্ত করা।

বাংলাদেশের অর্থনীতির  অন্যতম  খাত কৃষি  এবং  দেশের  জনসংখ্যার  প্রায়  দুই তৃতীয়াংশ কৃষক। কৃষি বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চল ও অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি এবং  জনগোষ্ঠীর অধিকাংশের প্রধান পেশা। খাদ্য নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি চালু রাখতে এই খাতের গুরুত্ব অনেক বেশি। কারণ দেশের খাদ্য শস্যের চাহিদার প্রায় ৯৫% সরবরাহ করেন এদেশের কৃষক। গত অর্থ বছরে ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। প্রবৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে এই সাফল্যের মূল ভিত্তি হচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতি। প্রত্যেকটি গ্রামকে এক একটি উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত করতে হবে। যাতে গ্রামের মানুষকে কর্মসংস্থানের জন্য শহরে আসতে না হয়। সার, বীজ, ওষুধ, পাম্প ইত্যাদি কৃষি উপকরণসমূহ সস্তায় যথাসময়ে খোদ উৎপাদকের কাছে সরবরাহের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। আধুনিক কৃষি উপকরণাদি নিজেদের দেশে নিজেরাই তৈরি করার উদ্যোগ নেওয়া। ‘বিএডিসি’কে শক্তিশালী ও দক্ষ করে তোলা। ফসলের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করার জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে ন্যায্য দামে ফসল ক্রয়, বাফার স্টক গড়ে তোলা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের আধিপত্য দূর করার জন্য বাজারজাতকরণ ও সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনায় যৌথ উদ্যোগ প্রবর্তন করা। কৃষকের উৎপাদন সমস্যার সমাধান করা। প্রাতিষ্ঠানিক কৃষি ঋণের ব্যবস্থা সম্প্রসারিত করা। শস্য-বীমা চালু করা। খাদ্যশস্য উৎপাদনের পাশাপাশি অন্যান্য ফসল উৎপাদন, মৎস্য-চাষ, পশুপালন ইত্যাদি সুষমভাবে বৃদ্ধির লক্ষ্যে কর্মকাণ্ড প্রসারিত করা। গ্রামাঞ্চলে কৃষিবহির্ভূত নানাখাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করা।

জরিপ করে কৃষিখাতের অতিরিক্ত লোকবল নির্ণয় করে তাদের জন্য সরকারি চাকুরীর ব্যবস্থা করা। সরকারি উদ্যোগে পতিত জমিতে ফসল উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং উৎপাদিত ফসলের ৫০ শতাংশ কৃষক ও ৫০ শতাংশ রেশনিং ব্যবস্থা সর্বরাহের জন্য সরকারি গুদামে জমা রাখা হবে। ফসল উৎপাদনে সকল প্রকার ক্ষতিকারক কিটনাশক ব্যবহার অবৈধ করা। গ্রামের মধ্যে হারিয়ে যাওয়া খাল ও ছোট নদীগুলোকে পুনরায় জীবিত করে প্রাকৃতিক মাছের উৎস তৈরি করা এবং জমি সেচের ব্যবস্থা খাল বা নদী থেকে করা।

চাষের খরচের সাথে ৫০ শতাংশ মুনাফা যুক্ত করে কৃষি পণ্যের ন্যূণতম মূল্য নির্ধারণ করা দরকার। প্রতিটি ইউনিয়নে সরকারী কৃষি পণ্য ক্রয় কেন্দ্র গড়ে গড়ে তোলা। কৃষি পণ্য বিপণনকারী চেইন স্টোর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সমূহের কর-শূল্ক-ভ্যাট কাঠামো সহনীয় পর্যায়ে রাখা । কৃষিখাতে তরুণ উদ্যোক্তা তৈরীর কর্মসূচীতে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও মূলধন সহযোগিতার প্রদান করা হবে । কৃষকদেরকে যুক্ত করে কৃষি এলাকায় কৃষি পর্যটন পরিকাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন।

) শিল্পায়ন:

বহুমুখী ও বহুমাত্রিক ধারায় শিল্পের যথাসম্ভব দ্রুত বিকাশের ব্যবস্থা করা এবং শিল্পায়নে বৈদেশিক বিনিয়োগ- ঋণ-সাহায্যের সুবিবেচনা প্রসূত ব্যবহার নিশ্চিত করা। ভোগ্যপণ্য, কৃষি উপকরণ, শিল্পের মৌলিক কাঁচামাল, ইস্পাত, নির্মাণ সামগ্রী ও প্রয়োজনীয় মূলধনী যন্ত্রপাতির চাহিদা মেটানোর জন্য রাষ্ট্রীয়খাতকে জোর দেওয়া। আগামী ৫ বছরের মধ্যে কিছু কিছু ভোগ্য পণ্যের উৎপাদন ও বিপণন থেকে বড় বড় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানকে প্রত্যাহার করা হবে। রাষ্ট্রীয়, সমবায়ী, মিশ্র ও ব্যক্তিগত মালিকানায় শিল্প-উদ্যোগ প্রসারিত করা । সরকার তার ক্রয়ের ৫০ শতাংশ পণ্য ও সেবা ক্ষুদ্রশিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে ক্রয় করবে।  ৮-১০টি খাতকে রপ্তানী শিল্প হিসেবে গড়ে তোলা হবে। প্রতিটি ইউনিয়নে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গড়ে তোলা। নগর অঞ্চলে হোমমেড ভোগ্য ও শিল্প পণ্যের উৎপাদন ও বিপণনে সহযোগিতা দেওয়া।

শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, সামগ্রিক জাতীয় ও সামাজিক স্বার্থ ও স্বাধীন-স্বনির্ভর অর্থনীতি বিকাশের স্বার্থে রাষ্ট্রীয় খাতের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য এই খাতে ব্যবস্থাপনা-পদ্ধতি পুনর্গঠন, দক্ষ দেশপ্রেমিক ব্যবস্থাপক-বাহিনী গড়ে তোলা । প্রকৃত শিল্পপতি ও বিনিয়োগকারী উদ্যোক্তাদের সহায়তা ও পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করা এবং উৎপাদনশীল অবদানের ক্ষেত্রে আমলাতান্ত্রিক ও অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা দূর করা। উন্নত প্রযুক্তিগত শিল্পের ক্ষেত্রে বিদেশি পুঁজি বিনিয়োগ উৎসাহিত করা। জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় রেখে বিদেশি পুঁজি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট ও স্বচ্ছ নীতি ব্যবস্থা প্রবর্তন। চোরাচালানি, মজুতদারি, কালোবাজারি, ঘুষ, দুর্নীতি, অপচয়, আমলাতান্ত্রিক স্বেচ্ছাচারিতা, অব্যবস্থা, নৈরাজ্য প্রভৃতি কঠোরভাবে দমন করা এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে সুষ্ঠ, স্বচ্ছ ও কার্যকর নীতি-ব্যবস্থা, আইন-কানুনের (গঠন তন্ত্রের) ভিত্তিতে সচল করা। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত গবেষণার ক্ষেত্রে দেশীয় গবেষকদের সর্বপ্রকার আনুকূল্য প্রদান করা। গবেষকদের মাঠের চাহিদার সাথে যুক্ত হতে অনুপ্রাণিত করা। রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও প্রসারিত করা। প্রবাসী বাংলাদেশিদের আয়-উপার্জন জাতীয় অর্থনীতিতে বিনিয়োজিত করার প্রক্রিয়া উৎসাহিত করা। প্রতিটি উপজেলায় ১ বা একাধিক শিল্প জোন স্থাপন।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পখাতের কল-কারখানাকে সব ধরণের হয়রানী মুক্ত রাখা হবে। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কল-কারখানাকে সরকারিভাবে অর্থায়ন করে তাদের প্রযুক্তির আধুনিকায়ন করা এবং এ সহযোগিতায় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কারখানাসমূহ গুণগতমানের পণ্য উৎপাদন করে দেশীয় বাজারের পাশাপাশি রপ্তানী বাজারেও সরবরাহ করতে পারবে। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য পাশ করা তরুণদের প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিসমূহের দ্বারা শিল্প ও বানিজ্য প্রকল্প তৈরীতে সহযোগিতা করা হবে। সরকার এসব প্রকল্পে অর্থায়ন করবে এবং সফল প্রকল্পসমূহ থেকে লভ্যাংশ গ্রহণ করবে।

বাংলাদেশ ২০২৬ সাল স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে সুযোগ-সুবিধা সীমিত হয় যাবে। তাতে দেশের পণ্য রপ্তানি খাত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বড় ধরনের সংস্কার করা ।

শ্রমিকদের জন্য ন্যায্য মজুরি, সকল শ্রমজীবির জন্য জাতীয় নিম্নতম মজুরি, কর্মস্থলের নিরাপত্তা ও পরিবেশ নিশ্চিত করা। বেসরকারী চাকুরিতে কর্মীবান্ধব বাস্তব সম্মত নীতিমালা প্রনয়ন করা ।

 

. বাসস্থান:

বসতভিটা, গ্রাম-উন্নয়ন ও নগরায়ন বাস্তুহীন, নিম্নবিত্ত ও দরিদ্র সকল পরিবারের জন্য ন্যূনতম বাসস্থানের ব্যবস্থা করা। গ্রামীণ বাস্তুহীনদের জন্য উপযুক্ত খাস জমি বাস্তুভিটার জন্য বরাদ্দ করা। প্রয়োজনে সরকারের পক্ষ থেকে জমি অধিগ্রহণের ব্যবস্থা করা। বহু ফসলী এবং প্রান্তিক ও ক্ষুদে কৃষকের জমি অধিগ্রহণ না করা। অধিগ্রহণ করা জমির ন্যায্য দাম ভূমি-মালিককে দ্রুত প্রদান করা। দরিদ্রদের গৃহনির্মাণ ঋণ-প্রকল্পের জন্য সরকারি বাজেট বরাদ্দ, বহুমুখী সরকারি কার্যক্রম ও বিভিন্ন বেসরকারি সাহায্য কার্যক্রম সমন্বিতভাবে অগ্রসর করা। দ্রুত ঘনবসতিপূর্ণ হয়ে ওঠা শহরগুলোতে পৌর সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা এবং বস্তিবাসীদের পূনর্বাসনের ব্যবস্থা সাপেক্ষে তাঁদের জন্য পৌরজীবনের ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা। যেহেতু দিন দিন কৃষি জমি শেষ হয়ে যাচ্ছে মানুষের আবাসিক অঞ্চল বৃদ্ধির ফলে। সরকারী অর্থায়নে পরিকল্পিত ভাবে গ্রামাঞ্চলে ৬ য় তলা বিশিষ্ট পাকা দালান করার মাধ্যমে স্বল্প জায়গায় বেশি পরিবারের বসবাস নিশ্চিত করা এবং কৃষিজমি রক্ষা করা। প্রতি এলাকায় পুকুর ও খেলার মাঠ নিশ্চিত করা। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে খেলার মাঠ থাকা বাধ্যতামূলক এবং  ১ ঘন্টা শিশুদের খেলার ব্যবস্থা থাকা বাধ্যতামূলক করা।

. জনস্বাস্থ্য:

জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার মূল লক্ষ “প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, নিরাময়মূলক স্বাস্থ্যসেবা নয়”। অর্থাৎ মানুষকে হাসপাতালে না আসার জন্য উৎসাহ দেওয়া। কিউবা ও কেরেলার সফলতা ও তাদের অভিজ্ঞতার আলোকে স্থানীয় পর্যায়ে গরীববান্ধব জনস্বাস্থ্য অবকাঠামো গড়ে তোলা। স্বাস্থ্য-পরিষেবা ও চিকিৎসা সকল নাগরিকের জন্য সুষম ও অভিন্ন চিকিৎসা-নীতি, স্বাস্থ্য-নীতি ও ওষুধ-নীতি চালু করা। এই খাতে পর্যাপ্ত বাজেট-বরাদ্দ নিশ্চিত করা। বিশুদ্ধ পানীয় জলের সরবরাহ, স্যানিটেশন, রোগ প্রতিষেধক ব্যবস্থার সম্প্রসারণ করা, ইউনিয়ন পর্যায়ে মাতৃসদন ও শিশু-স্বাস্থ্য পরিচর্যা কেন্দ্রসহ প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন করা, থানাসমূহে উন্নত চিকিৎসা-সুযোগসম্পন্ন হাসপাতাল স্থাপন করা। বিভিন্ন দেশজ চিকিৎসা পদ্ধতির আধুনিকায়নের জন্য গবেষণা কাজে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা।

সরকারি উদ্যোগে মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতাল, হাসপাতালের হোস্টেল, গবেষণার জন্য ল্যাবরেটরি, লাইব্রেরি তৈরি করা। জটিল ও দুরারোগ্য রোগের চিকিৎসা বরাবরই দীর্ঘমেয়াদি। তাই চিকিৎসা চলাকালীন রোগীর ওপর চিকিৎসকের নিবিড় পর্যবেক্ষণ যেমন জরুরি, তেমনি চিকিৎসা চলাকালীন নিয়মিত বিরতিতে রোগীর যোগাযোগও জরুরি। এসব ক্ষেত্রে রোগীর ফলোআপের পাশাপাশি কেস হিস্ট্রি সংরক্ষণও প্রয়োজন, যা পরবর্তী সময়ে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। কিন্তু পুরো বিষয়টি চিকিৎসকের ব্যক্তিগত চেম্বারভিত্তিক ও রোগীর মর্জিমাফিক হওয়াতে নিয়মের কিছুটা ব্যত্যয় ঘটে। ফলে চিকিৎসার সুফল পেতে রোগীর দেরি হয়। তা ছাড়া মানুষের ধ্যান-ধারণা এখন এমন, সাধারণ রোগের জন্যও মানুষ সিনিয়র কনসালট্যান্টের কাছে যাচ্ছে। ফলে জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকগণ চেম্বারে অত্যধিক রোগীর চাপে জটিল রোগীকে স্বাভাবিকভাবেই আলাদাভাবে যথেষ্ট সময় দিতে পারছেন না। মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতালে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের উন্নতমানের অর্থনৈতিক নিরাপত্তাসহ দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের সমন্বয় বাড়াতে হবে। আধুনিক যন্ত্রপাতি, সমৃদ্ধ ল্যাবরেটরি, দক্ষ ও শিক্ষিত টেকনিশিয়ান দিনে ২৪ ঘন্টা থাকতে হবে। যেহেতু এ মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতালে বড় অস্ত্রোপচারসহ জটিল ও দুরারোগ্য রোগের চিকিৎসা হবে এবং অস্ত্রোপচার-পরবর্তী রোগীদের বেশ কিছুদিন ওয়ার্ডে থাকতে হয়, তাই অভিজ্ঞ এবং দক্ষ নার্সের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি। এ ধরনের হাসপাতালে সাধারণত রোগীরা প্রথম পর্যায়ের ট্রিটমেন্ট শেষ করে পরে আবার চেকআপের জন্য আসে। প্রাথমিকভাবে রোগীর নাম নিবন্ধন থেকে শুরু করে পূর্ববর্তী চিকিৎসার বর্ণনা, ভর্তিপরবর্তী ব্যবস্থাপত্রের সব তথ্য নিজ নিজ ডিপার্টমেন্টে সংরক্ষিত থাকে বিধায় এবং পুরো চিকিৎসা প্রক্রিয়া সব রোগের টেস্টসহ একই হাসপাতালে হওয়ায় প্রয়োজনে আন্তঃবিভাগ সমন্বয় করে কোনো জটিলতা সৃষ্টি হলে তা সমাধানের জন্যও সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া যায়। অর্থাৎ দ্রুত ও সঠিক চিকিৎসা, যেটি একটি জটিল রোগীর দরকার তা নিশ্চিত করা যায়। 

তৃণমূল স্তরের স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রের সবচেয়ে বড় সমস্যা ডাক্তার আছে তো প্রযুক্তি নেই, প্রযুক্তি আছে তো টেকনিশিয়ান নেই। এর ফলে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে প্রযুক্তি অলসভাবে পরে থাকে। ডাক্তারদের জন্য উন্নত আবাসিক সুবিধা, নিরাপত্তা ও সন্তানদের জন্য আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হলে গ্রাম অঞ্চলে দক্ষ, অভিজ্ঞ ডাক্তার পাঠানো সম্ভব। আমাদের স্বাস্থ্য খাতের পর্যাপ্ত General Practitioner তৈরী করতে হবে। ইমারজেন্সি চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত ডাক্তার তৈরী করা । রেফারেল পদ্ধতিকে পূর্ণভাবে কার্যকর করে বিভাগীয় ও জেলা সদর হাসপাতালে রোগীর চাপ কমানো হবে। অনলাইন পদ্ধতিতে কেন্দ্র থেকে বিভাগীয়, জেলা সদর, উপজেলা সদর ও ইউনিয়ন পরিষদে অবস্থিত স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র বা হাসপাতালসমূহের সেবার মান ও রোগীদেরকে আন্তরিকভাবে সেবা দেওয়া হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষন করা । প্রয়োজনে প্রতিটি হাসপাতালে অভিজ্ঞ ডাক্তাদের বৈকালিক চেম্বার খোলার অনুমতি দেওয়া হবে। প্রতিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রয়োজনীয় স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দেওয়া হবে। প্রতিটি পাবলিক হাসপাতালের ডায়াগনস্টিক সরঞ্জাম ২৪ ঘন্টা চালু রাখা হবে এবং স্বল্পমূল্যে ডায়াগনস্টিক সেবা গরীব রোগীদের দেওয়া হবে। ছোটখাট রোগশোকে মানুষ যাতে না মরে বিনা চিকিৎসায়, তাই প্রতিটি গ্রামে প্রথাগত (আয়ুর্বেদ, ইউনানী ও কবিরাজী)চিকিৎসার আরোগ্য নিকেতন স্থাপন। প্রতিটি বস্তিতে সরকার ও এনজিও এর যৌথ উদ্যোগে কার্যকর স্বাস্থ্যকেন্দ্র গড়ে তোলা।

বর্তমানে অনেক চিকিৎসা সরঞ্জাম বিদেশ থেকে আমদানী করতে হয়। দেশিয় প্রযুক্তিতে এই সকল সরঞ্জাম তৈরি হলে চিকিৎসা ব্যয় কমবে এবং সাধারণ মানুষ উপর চাপ কমবে।

. শিক্ষা:

ইউনেস্কো’র সুপারিশ অনুযায়ী শিক্ষাখাতে বাজেটের বরাদ্দ বাড়িয়ে ৩৩ ভাগ করার লক্ষ্যে ধাপে ধাপে অগ্রসর হওয়া। শিক্ষা বাজেটের ৫০ শতাংশ কারিগরী শিক্ষা খাতে ব্যায় করা হবে। শহর ও গ্রামে পর্যাপ্ত সংখ্যক মক্তব খোলে শিশুদের নৈতিক শিক্ষা দেওয়া হবে। উচ্চ শিক্ষা সম্পন্ন হলে ছাত্রদের বিষয়ভিত্তিক এক বছরের গবেষণা করার সুযোগ দেওয়া হবে এবং গবেষণার সফলতার ভিত্তিতে তাদের উচ্চ বেতনে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও বিভিন্ন দপ্তরে নিয়োগ দেওয়া হবে। এর ফলে দেশ থেকে মেধা পাচার কমবে।

নতুন কোন সরকারি বা বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন না করে কৃষক, শ্রমিক, শিল্প উদ্যোক্তা ও স্থানীয় শিক্ষাবিদদের ব্যবস্থাপনায় প্রতিটি উপজেলায় কমিউনিটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচি প্রণিত হবে স্থানীয় কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতের চাহিদা ভিত্তিতে। ধর্মীয় শিক্ষা সরকার ও সমাজের অর্থায়নে পরিচালিত হবে। সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে খেলার মাঠ এবং শিশুদের শারিরিক বিকাশে বাধ্যতা মূলক ১ ঘন্টা খেলা নিশ্চিত করা।

 

. পররাষ্ট্র নীতি:

পারস্পরিক স্বার্থ, সমমর্যাদা ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতির ভিত্তিতে বিশ্বের সকল দেশের সাথে আন্তঃরাষ্ট্রীয় সুসম্পর্ক বজায় রাখা। উন্নত প্রযুক্তির দেশসমূহের সঙ্গে সম্পর্ক সম্প্রসারণ ও গভীরতর করার জন্য বিশেষভাবে উদ্যোগী হওয়া। প্রতিবেশি দেশের সাথে সকল বিরাজমান সমস্যা যেমন নদীর পানি বণ্টন, সীমান্ত হত্যা বন্ধ ও বাণিজ্য ঘাটতির সমাধান । অর্থনৈতিক কূটনীতির লক্ষ্য রপ্তানী বৃদ্ধি, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ ও জনশক্তি রপ্তানী।

বর্তমান বৈশ্বিক রাজনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়গুলো নিয়ে গভীর বিশ্লেষণ ও গবেষণার জন্য জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মতো একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো দরকার। ওই পরিষদ বিভিন্ন বিষয় বিশ্লেষণ করে পরামর্শ দেবে, সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীই নেবেন। এর মাধ্যমে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত সংস্থাগুলোর মধ্যেও একটি সমন্বয় হবে।

ভৌগোলিক অবস্থান, ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি ও অর্থনৈতিক কারণে বৈশ্বিক রাজনীতিতে বাংলাদেশের গুরুত্ব বাড়ছে। ভারত ও চীন বড় শক্তি হিসেবে আঞ্চলিকভাবে নিজেদের প্রভাববলয় তৈরি করতে চায়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র চায় দক্ষিণ এশিয়াকে  নিজের প্রভাববলয়ে রাখতে। বাংলাদেশে এক দিকে আছে ১৬ কোটি মানুষের বাজার; অন্যদিকে আছে কম খরচে পণ্য তৈরির সুবিধা, প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় মজুদ এবং পাশের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে পণ্য পরিবহন ও যোগাযোগের ব্যাপক সম্ভাবনা। এসব কারণে বাংলাদেশের দিকে নজর আছে বড় শক্তিগুলোর। ২০২৪ সাল নাগাদ মধ্য আয়ের দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার অপেক্ষায়ও আছে বাংলাদেশ। অর্থনীতি যত বড় হবে বাণিজ্য তত বাড়বে। জ্বালানি প্রয়োজন ও বাজার ধরার প্রয়োজন বাড়বে। সে ক্ষেত্রে বৈশ্বিক রাজনীতিতে ভূমিকা রাখতে হবে বাংলাদেশকে। এ ক্ষেত্রে কৌশল কী হবে সে পরামর্শও আসতে পারে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ থেকে।

. প্রতিরক্ষা নীতি:

প্রতিরক্ষা খাতের প্রধান অগ্রাধিকার হবে গণপ্রতিরক্ষা কাঠামো। ১৬ বছর বয়স থেকে সকল সুস্থ তরুণ-তরুণীদের সামরিক প্রশিক্ষণ হবে বাধ্যতামূলক। বাংলাদেশের ভূগোল, অভ্যন্তরীণ সংযোগ ও ভূ-কৌশলগত অবস্থান, রুশ- ইউক্রেনীয় সংকট, ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি এবং প্রতিবেশী দুইটি রাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা ও সেসব রাষ্ট্র থেকে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি প্রতিনিয়ত বিশ্লেষন করে জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশল প্রণয়ন করা । প্রতিরক্ষার জন্য বিদেশি সরবরাহকারীদের উপর নির্ভরতা সীমিত করার লক্ষ্যে নিজস্ব গবেষণা এবং সামরিক প্রযুক্তিতে উন্নত দেশগুলোর সাথে যৌথভাবে  মিলিটারি  সরঞ্জাম কারখানা প্রতিষ্ঠা করা । এ সব জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়গুলো নিয়ে গভীর বিশ্লেষণ ও গবেষণার জন্য জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মতো একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলা হবে ।

. ঘুষদুর্নীতিঅপরাধসন্ত্রাস নিবারণ:

ঘুষ-দুর্নীতি-অপরাধ-সন্ত্রাস রোধকল্পে কঠোর নিবারণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং সকল নীতিহীন তৎপরতার বিরুদ্ধে শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা। রাষ্ট্রের উচ্চপদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিবর্গের ও দেশের সকল রাজনৈতিক দলের এবং নেতাদের সম্পদ, আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়মিত প্রকাশের ব্যবস্থা করা। তা বাস্তবায়নে বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর), আইন প্রয়োগকারী সংস্থা মতো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা হবে ।

 ১১. নারীর   ক্ষমতায়ন:

নারীসমাজের উপর পরিচালিত নানা অন্যায়, অত্যাচার ও বৈষম্য দূর করে সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক পরিমণ্ডলসহ জীবনের সর্বক্ষেত্রে তাদের সমান অংশগ্রহণ, তাদের সমমর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। ধর্ষণ, বাল্যবিবাহ, যৌতুক প্রথাসহ সকল প্রকার নারী নির্যাতন কার্যকরভাবে রোধ করা। প্রাথমিক পর্যায়ে নারীসমাজের উন্নতি ও অগ্রগতির জন্য ইতিবাচক পক্ষপাতমূলক (Positive Discrimination) বিশেষ কার্যক্রম গ্রহণ করা। নারী ও পুরুষের মধ্যে কাজ ও মজুরির ক্ষেত্রে সমতা প্রতিষ্ঠা করা। কর্মস্থলে শিশু-পরিচর্যা কেন্দ্র স্থাপন করা। নারীর সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনে প্রত্যক্ষ ভোটে প্রতিনিধি নির্বাচন করা।

. জনসংখ্যানিয়ন্ত্রণ জনশক্তি উন্নয়ন:

প্রচলিত জন্ম-নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাদি প্রসারিত করার পাশাপাশি জনগণের শিক্ষা-স্বাস্থ্য-পুষ্টির উন্নতি, সচেতনতা-সংস্কৃতির উন্নয়ন, শিশুমৃত্যুর হার হ্রাসসহ প্রতিটি মানুষকে মর্যাদাসম্পন্ন করে তোলার কার্যক্রমের মাধ্যমে ছোট পরিবার গঠনের বিষয়টিকে স্বতঃস্ফূর্ত ও স্বাভাবিক আকাঙ্ক্ষায় পরিণত করা। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রমকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করা। জনশক্তিকে সম্পদ হিসেবে গণ্য করার মানসিকতা দৃঢ়মূল করা। বিশেষ করে পথশিশু, পতিতাদের সন্তান, তৃতিয় লিঙ্গ হিসেবে জন্ম নেওয়া শিশু এবং অবহেলিত শিশুদের মাধ্যমিক শিক্ষা পর্যন্ত কর্মভিত্তিক শিক্ষা সহ সকল দ্বায়িত্ব  সরকার বহন করবে।

. প্রাকৃতিক খনিজ সম্পদ:

প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদ সম্পদ আহরণ ও ব্যবহারের পরিকল্পিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা। তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদসহ দেশের সমুদয় প্রাকৃতিক সম্পদের অনুসন্ধান, উত্তোলন ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্বল্পমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ স্থান দেওয়া। এক্ষেত্রে বহুজাতিক কোম্পানির সাথে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে  চুক্তি করা হবে। প্রতিটি কয়লা খনির ভূ-কাঠামো অনুযায়ী কয়লা উত্তোলন পদ্ধতির প্রয়োগ। ভারত ও মায়ানমারের সাথে আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমা নির্ধারিত হওয়ার পর বাংলাদেশের জন্য Blue Economy অর্থনীতির এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। গভীর সমুদ্রে তেল-গ্যাস ও অন্যান্য খনিজ সম্পদ উত্তোলনে জোর দিতে হবে।

. যোগাযোগ ব্যবস্থা:

দেশের পানি সম্পদ, ভূমি সম্পদসহ সকল প্রকার প্রাকৃতিক সম্পদকে টেকসই মানব উন্নয়নের কাজে লাগানোর লক্ষ্যে সে সবের যথাযথ সমন্বয় ও দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিতকল্পে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রণয়ন ও কার্যকর করা। দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নে জাতীয় বৈশিষ্ট্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও জাতীয় স্বার্থে দীর্ঘমেয়াদী মহাপরিকল্পনা কার্যকর করা। নৌপথ ও রেলপথের যোগাযোগ-ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও বিকাশের অগ্রাধিকার দেওয়া। সড়ক যোগাযোগ-ব্যবস্থা গ্রামাঞ্চলে প্রসারিত করা। ক্রমবর্ধমান যানজট দূরীকরণে সড়ক-মহাসড়কের প্রয়োজনীয় সংস্কারসহ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। জনপথ ও গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ করা।

১৫. প্রকৃতি, পরিবেশ জলবায়ু রক্ষা:

প্রকৃতি, পরিবেশ ও জলবায়ু প্রকৃতি ও পরিবেশ বিধ্বংসী সকল প্রক্রিয়া রোধকল্পে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। উন্নয়ন ধারায় ও প্রযুক্তি ব্যবহারে পরিবেশবান্ধব বিকল্প অনুসরণ করা। সমুদ্র ও নদী দূষণ, আর্সেনিক, বায়ু ও শব্দ দূষণসহ সবধরনের দূষণ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদী পদক্ষেপ গ্রহণ করা। বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার বহুগুণ বৃদ্ধি করা। সব নাগরিকের জন্য সুপেয় জলের নিশ্চয়তা বিধান করা। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে দায়ী দেশগুলোর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় এবং বাংলাদেশে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সর্বাঙ্গীন উন্নতি ও দক্ষতা নিশ্চিত করা। প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিনষ্ট হওয়ার প্রবণতা ও পরিবেশ দূষণ প্রক্রিয়া রোধকল্পে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। বাংলাদেশের জনগণের নিরাপদ পানি প্রাপ্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পানি দূষণ (আর্সেনিক ও লবণাক্ততা দ্বারা দূষণ) রোধ করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা। সুষ্ঠ পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও আন্তঃরাষ্ট্রীয় নদীর পানি বণ্টনে বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা। বাংলাদেশের নদীর পানি মিঠা তাই নদীর পানি দুষন মুক্তকরে, নদীর পানি পানীয় হিসেবে দেশের বাহিরে রফতানী করার মতো উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা।

. সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি:

নগর দরিদ্র মানুষের যথাযথ তালিকা প্রণয়ন করে শহর এলাকায় রেশনিং ব্যবস্থা চালু।  নগর ও গ্রামীণ এলাকায় ১০০ দিনের কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইন বাস্তবায়ন।  বৃদ্ধ নাগরিকদের দায়-দায়িত্ব সন্তানদের নেওয়া বাধ্যতামূলক আইন পাশ করা।  গণভিক্ষাবৃত্তি বন্ধে প্রকৃত ভিক্ষুক চিহ্নিত করে আইডি কার্ড ইস্যু করা। দ্রব্যমূল্য দ্রব্যমূল্য জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে সীমিত রাখার ব্যবস্থা করা। এজন্য গ্রাম ও শহরের গরিব ও মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য স্থায়ী রেশনিং ব্যবস্থা, ন্যায্যমূল্যের দোকান, ক্রেতা সমবায়, সরকারি উদ্যোগে বাফার-স্টক গড়ে তোলা ইত্যাদি ব্যবস্থা করা। দক্ষ ও দুর্নীতিমুক্ত শক্তিশালী গণবণ্টন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। ভোগ্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করা। মজুদদারি, কালোবাজারি ও চোরাচালানি কঠোর হাতে দমন করা।

. রাজস্ব আহরণ অর্থায়ন:

ধর্মপ্রাণ মানুষের প্রদেয় ও যাকাত, দান-সদকা, দেবত্তোর ও ওয়াকফ সম্পত্তিকে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় আনা। গ্রামীণ বহুমুখী সমবায় থেকে প্রাপ্ত পণ্য সমগ্রী। দেশি-বিদেশী ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত কর রাজস্ব। ধনী ব্যক্তি কর্তৃক প্রদত্ত আয়কর। প্রতিষ্ঠিত রপ্তানী শিল্প প্রতিষ্ঠানের সকল ধরণের প্রণোদনা রহিত করা। দেশব্যাপী সম্পদ শুমারীর মাধ্যমে শহর ও গ্রামের ধনী ব্যক্তিদের উপর সম্পদ কর বসানো। দরিদ্র জনগণের ওপর চাপানো পরোক্ষ কর কমিয়ে এনে বিত্তবানদের ওপর প্রগতিশীল হারে কর আরোপের নীতি গ্রহণ করা। আমদানী রপ্তানী ব্যবসা থেকে প্রাপ্ত কর রাজস্ব। সাধারণ নাগরিকদের প্রদেয় ভ্যাট শুল্ক রাজস্ব। সরকারি শিল্প ও সেবা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্য মুনাফা।