JDP

আমরা তৃতীয় শক্তি নয় - বাংলাদেশের একমাত্র বিকল্প শক্তি

বাংলাদেশ জাস্টিস এন্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি

Bangladesh Justice and Development Party

বাংলাদেশ জাস্টিস এন্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এর বক্তব্য :

বাংলাদেশ জাস্টিস এন্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির পক্ষ থেকে বাংলাদেশের সকল শ্রেণি-পেশার, ধর্ম-বর্ণ, অঞ্চল ও সম্প্রদায়ের সম্মানিত নাগরিকদের প্রতি রইল আন্তরিক সালাম, শুভেচ্ছা ও শুভকামনা। আপনাদের হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা, নিরন্তর সংগ্রাম ও অবিচল প্রত্যাশাই আমাদের অনুপ্রেরণা। একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে আমরা আপনাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। চলুন, আমরা সকলে মিলে গড়ি নতুন সম্ভাবনার, শান্তি ও সুবিচারের বাংলাদেশ।

আমাদের দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি গভীর সংকটের মধ্যে রয়েছে। শ্রমিক, কৃষক, মেহনতি, দিনমজুর, রিক্সা ও সিএনজি চালক, দলিত, হতদরিদ্র, লাঞ্ছিত ও বঞ্চিত জনগণের স্বার্থ উপেক্ষিত হয়ে একটি দুর্নীতিগ্রস্ত, সিন্ডিকেটমুখর ও মাফিয়া নিয়ন্ত্রিত রাজনীতি সৃষ্টি হয়েছে। বড় দুটি দল ক্ষমতায় থাকুক বা না থাকুক, জনগণের জন্য প্রকৃত কোনো পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়নি, কারণ দেশের রাজনীতি এখন আর আদর্শ বা নীতির ভিত্তিতে নয়, বরং ক্ষমতার লড়াইয়ে বিভক্ত।

আমাদের দেশে রাজনৈতিক পরিসর বড় দুটি দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ, যেখানে নতুন রাজনৈতিক দলগুলোও শেষ পর্যন্ত ঐ দুই দলের কোন একটি পক্ষ নিয়েই নিজেকে বন্ধিত করেছে। এর ফলে জাতির সুস্থ পরিবর্তন ও উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষত তরুণ প্রজন্মের অসংখ্য কর্মহীনতা ও মানসিক বিপর্যয় দেশের সবচেয়ে বড় সংকট হিসেবে দাঁড়িয়েছে, যেখানে ৫ কোটিরও বেশি বেকার তরুণের জন্য বাস্তব কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই।

আজ আমাদের চোখের সামনে তরুণ সমাজ মাদকাসক্তি, সহিংসতা ও সামাজিক অবক্ষয়ের শিকার হচ্ছে। অথচ প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও কার্যকর পরিকল্পনা ও বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে পাচ্ছি না। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবা জনসাধারণের নাগালের বাইরে চলে গেছে। পরিবেশের অবনতি, বনভূমির সংকোচন, নদী খালের দখলদারদের দৌরাত্ম্য, ক্ষতিকর প্লাস্টিক ও বিদেশি সংস্কৃতির হস্তক্ষেপ আমাদের জাতীয় ঐতিহ্য ও প্রকৃতিকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

আমাদের রাজনৈতিক নেতারা সমস্যার সমাধানের বদলে একে অপরের সমালোচনায় ব্যস্ত, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ উপেক্ষা করে দেশকে একটি আন্তঃসারশূন্য অবস্থা থেকে বের করতে পারছেন না। নতুন দলগুলো যখন নিজেদের আদর্শ থেকে সরে এসে বড় দলগুলোর ধারায় নিমজ্জিত হয়, তখন জাতির জন্য কার্যকর রাষ্ট্রগঠন ও সমাজ পরিবর্তনের পথ বন্ধ হয়ে যায়।

এসব কারণে, বাংলাদেশ জাস্টিস এন্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি দৃঢ় সংকল্পের সঙ্গে ঘোষণা করছে—আমরা বিরোধিতার জন্য বিরোধিতার পরিবর্তে, গতানুগতিক রাজনৈতিক জটিলতা থেকে বের হয়ে, দেশের মানুষের জন্য একটি সৃষ্টিশীল, বাস্তবমুখী এবং গণমুখী বিকল্প শক্তি গঠন করব। আমাদের লক্ষ্য হবে দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এবং জাতিকে একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়সঙ্গত ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালনা করা।

আমরা শ্রমিক, কৃষক, মেহনতি, দিনমজুর, হতদরিদ্র ও বঞ্চিত জনগণের অংশগ্রহণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিশ্চিত করব। জনসাধারণের সরাসরি পরামর্শ ও মতামতকে ভিত্তি করে একটি নতুন গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করব, যা জনগণের স্বার্থে রচিত হবে এবং গণতান্ত্রিক অধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সমর্থ হবে।

আমাদের দল দেশের প্রকৃত সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সংরক্ষণে কাজ করবে, নারী-পুরুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করবে এবং দেশের সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি ও সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাবে।
শিক্ষা ও কর্মসংস্থান ক্ষেত্রে আমরা প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষতাভিত্তিক এবং মানবিক শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তরুণ সমাজকে আত্মনির্ভরশীল ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলব। বেকারত্ব কমাতে বাস্তবসম্মত নীতি প্রণয়ন ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করব।

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে আমরা সিন্ডিকেটমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলব, যেখানে সকলের জন্য সমান সুযোগ থাকবে। কৃষি ও পরিবেশ সংরক্ষণে আমরা টেকসই নীতি গ্রহণ করব, ক্ষতিকর কৃত্রিম প্রভাব থেকে মুক্ত করে প্রকৃতি ও মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করব।
আমরা বিশ্বাস করি, বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা নয়, বাস্তবমুখী ও সমাধানমুখী বিকল্প শক্তি গঠন ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, খেটে খাওয়া, পিছিয়ে পড়া জনগণ ও নারীর অধিকার নিশ্চিত করা, তাদের কণ্ঠস্বর শক্তিশালী করা এবং গঠনমূলক অংশগ্রহণের মাধ্যমে এক সুসংগঠিত ও ন্যায়ের বাংলাদেশ গড়া।

আমরা নতুন গঠনতন্ত্র প্রণয়নে জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করব, যেখানে আইনের জন্য জনগন নয়, জনগণের কথা মাথায় রেখে আইন গৃহীত হবে। কর্মভিত্তিক, মানবিক, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা ও বেকারত্ব নিরসনে বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করব। দেশের অর্থনৈতিক নীতিতে প্রান্তিক জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে সিন্ডিকেটমুক্ত সমতা ভিত্তিক অর্থনীতি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেব।
একই সঙ্গে আমরা পরিবেশ সংরক্ষণ, ক্ষতিকর কীটনাশক ও অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, স্থানীয় সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারবদ্ধ। শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য আধুনিক সশস্ত্র বাহিনী গঠন ও জনগণনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করব।

দুর্নীতি ও মাফিয়া মোকাবিলায় কঠোর অবস্থান নিয়ে জনগণের সম্পদ ফেরত আনতে আমরা বদ্ধপরিকর।
আমরা বিশ্বাস করি, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের আদর্শে দেশকে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে পরিচালিত করে আমরা একটি মর্যাদাপূর্ণ, প্রগতিশীল ও শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব। জনগণের জন্য ট্যাগের রাজনীতি মুক্ত, জবাবদিহিমূলক ও স্বচ্ছ রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলাই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমাদের পথ চলা হবে ঐক্য ও মানবিকতার মধ্য দিয়ে, যেখানে প্রতিটি জনগনের অধিকার ও সম্মান নিশ্চিত থাকবে। এভাবেই আমরা একটি উন্নত ও সুখী জাতি গঠন করব।

আজ আমরা সবাইকে আহ্বান জানাই—একা নয়, ঐক্যবদ্ধ হয়ে বদলাতে হবে আমাদের দেশ, বদলাতে হবে আমাদের রাজনীতি, এবং গড়ে তুলতে হবে গণমানুষের এক নতুন বাংলাদেশ।